জাপানে শুরু চারকোনা তরমুজের বাজারজাতকরণ

জাপানের পশ্চিমাঞ্চলীয় একটি শহরে গ্রীষ্মকালীন সৌন্দর্যবর্ধকের জন্য বিখ্যাত চারকোনা (বর্গাকৃতি) তরমুজ বাজারজাত শুরু হয়েছে।

গত মঙ্গলবার কাগাওয়া প্রিফেকচারের জেন্তসুজি শহরে এ বিশেষ আকৃতির ফলটির প্রথম চালান পাঠানো হয়। চাষীরা আশা করছেন, জুলাইয়ের মাঝামাঝির মধ্যে প্রায় ৪০০টি চারকোনা তরমুজ বাজারে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। অনন্য আকৃতির এ প্রতি পিস তরমুজ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১০ হাজার জাপানি ইয়েনে, যা প্রায় ৬২ ডলারের সমান।

দেখতে তরমুজের মতো হলেও এটি মূলত কোনো খাওয়ার ফল নয়। ফলটিতে মিষ্টির পরিমাণ একেবারেই কম এবং এটি খাওয়ার উপযোগীও নয়। মূলত ফলটি পাকার আগেই গাছ থেকে কেটে নেয়া হয়, ফলে এতে সাধারণ তরমুজের মতো মিষ্টি বা রসালো স্বাদ তৈরি হয় না। তবে এর ব্যতিক্রমী জ্যামিতিক রূপের কারণে দেশজুড়ে এটি শোপিস বা ঘর সাজানোর সামগ্রী হিসেবে বেশ জনপ্রিয়। গ্রীষ্মকালকে স্বাগত জানাতে অনেকেই বিভিন্ন শপিং মল, অভিজাত ফলের দোকান ও ঘরের ড্রয়িংরুমে প্রদর্শনের জন্য এ তরমুজ কিনে থাকেন।

তরমুজকে এমন নিখুঁত চারকোনা রূপ দিতে চাষীদের বেশ বাড়তি যত্ন নিতে হয়। লতানো গাছে তরমুজ যখন একটি নির্দিষ্ট আকারে পৌঁছায়, তখন সেগুলোকে ধাতব ফ্রেমযুক্ত স্বচ্ছ চারকোনা বাক্সের ভেতর ঢুকিয়ে দেয়া হয়। প্লাস্টিকের বাক্সের ভেতরেই ফলটি ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে এবং একপর্যায়ে বাক্সের আকৃতি ধারণ করে। পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় প্রতিটি তরমুজ প্রায় ১৮ সেন্টিমিটারের একটি ঘনক বা কিউবে পরিণত হয়।

প্রায় ৫০ বছর আগে স্থানীয় একটি কৃষক দল এ অভিনব চাষ পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছিল। সে সময় মূলত রেফ্রিজারেটরের ভেতরে যেন তরমুজ সহজে এবং কম জায়গায় সোজা করে রাখা যায়, সেই চিন্তা থেকেই এ আকৃতি তৈরি করা হয়। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি ফ্রিজে রাখার ব্যবহারিক সুবিধা ছেড়ে একটি বিলাসবহুল উপহার এবং সাজসজ্জার উপাদানে পরিণত হয়েছে।

বর্তমানে এ অঞ্চলে মাত্র সাতটি বিশেষায়িত খামারে এ চারকোনা তরমুজ চাষ করা হয়। শিপমেন্টের প্রথম দিনে চাষী ও কৃষিকর্মীরা সকালে সংগ্রহ কেন্দ্রে জড়ো হন। বাক্সে প্যাক করার আগে তারা প্রতিটি তরমুজের আকৃতি ও মান খুবই সতর্কতার সঙ্গে পরীক্ষা করেন। তোশিইউকি ইয়ামাশিতা নামের ৭৮ বছর বয়সী এক প্রবীণ চাষী এবারের ফলন নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, ‘এ বছর তরমুজের ফলন খুব ভালো হয়েছে। আমি আশা করি, মানুষ যখন এ চারকোনা তরমুজগুলো দেখবে, তখন তারা গ্রীষ্মের আগমনী বার্তা অনুভব করতে পারবে।’

—খবর ও ছবি জাপান টুডে

আরও